AlokitoBangla
  • ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
banner

সিরাজগঞ্জে বিএনপি‍‍`র ৯ নেতা-কর্মীর বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ


FavIcon
এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৪, ০৬:০৪ পিএম
সিরাজগঞ্জে বিএনপি‍‍`র ৯ নেতা-কর্মীর বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ
সিরাজগঞ্জে বিএনপি‍‍`র ৯ নেতা-কর্মীর বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

ভোট দিতে না যাওয়ায় ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৯ নেতা-কর্মীর বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৮ জানুয়ারি উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাটশিরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

বৈদ্যুতিক সংযোগ কেটে দেওয়ায় ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রাত-দিন কাটছে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও বিঘ্নিত হচ্ছে। 

এ বিষয়ে ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কাজীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশাদুল ইসলাম। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে ৮ জানুয়ারি রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বসতবাড়ির বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। 

আজ মঙ্গলবার(৩০জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কাজীপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ছানোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেব।’ 

যাদের বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন কাজীপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশাদুল ইসলাম, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন এবং বিএনপি কর্মী বদিউজ্জামান, হায়দার আলী, জহুরুল ইসলাম, দুদু মিয়া, আজিবার মওলানা ও হাসান সরকার। 

কাজীপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশাদুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে। এ কারণে ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ায় ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয় আমাদের বিরুদ্ধে। পরে ৮ জানুয়ারি রাতে চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ও উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেকুল ইসলাম রনুর নেতৃত্ব ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী একত্রিত হয়ে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর ১৪টি বৈদ্যুতিক লাইন কেটে দেন। সেই দিন থেকে বিদ্যুৎহীন রাত কাটছে আমাদের।’ 

আশাদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটছে। ঘরের ফ্রিজ ছোট বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ রয়েছে, এরপরও লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে লিখিত অভিযোগ করে কাজ হয়নি। ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন রাত কাটছে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যদের।’ 

এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেকুল ইসলাম রনু বলেন, ‘লাইন কাটার সময় আমি ছিলাম না। রাজনৈতিক কারণে আমার নাম বলা হচ্ছে। যুবদল নেতা আশাদুল আমার মামাতো ভাই। তাঁর বাড়িতে লাইন কাটার সময় আমি ছিলাম না। পরে শুনেছি তাঁর বাড়ির বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আছেন যিনি বিদ্যুতের কাজ করেন। তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলে পাওয়া যাবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত।’ 

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের কাজ করি। যখন যিনি ডাকেন তাঁর কাজ করে দিই। ৮ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা চান্দু আব্দুল কাদের, হায়দার মেকার, শাহাদাত, মুন্নাফসহ ৫০-৬০ জন আমাকে জোর করে নিয়ে যান। লাইন কাটা হয়েছে ৯টা। লাইন আরও কাটানো হবে বললে, আমার নাতি কান্নাকাটি করছে এমন কথা বলে চলে আসি। তাঁরা বিএনপি করেন এ জন্য লাইন কেটেছে। তাঁরা ভোট দিতে যাননি।’ 

এ বিষয়ে চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় এমপি তানভীর শাকিল জয় ও উপজেলার চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান শিরাজী দেখবেন। লাইন কাটা আছে। যাঁরা ডিজিএমের কাছে গিয়েছিলেন তাঁদের বলা হয়েছে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।’ 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বৈদ্যুতিক সংযোগ কেটে দেওয়ার বিষয়ে জানতে কাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান শিরাজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। 

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল হাসান তালুকদার রানা বলেন, ‘ঘটনাটি অমানবিক। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া না যাওয়া ব্যক্তিগত বিষয়। এটিকে পুঁজি করে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিতে হবে, এটি হতে পারে না। তাঁরা তো নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। বিলও পরিশোধ রয়েছে। তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

Banner
Side banner
Side banner