AlokitoBangla
  • ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের ফের সড়ক অবরোধ


FavIcon
গাজীপুর,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২১, ০৯:০৬ পিএম
গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের ফের সড়ক অবরোধ
গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের ফের সড়ক অবরোধ

বকেয়া বেতনের দাবিতে আবারো সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার গাজীপুর-ঢাকা সড়কে লক্ষ্মীপুরা এলাকায় স্টাইল ক্রাফ্ট লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা অবরোধ করেন। এর আগেও বেশ কয়েকদিন তারা একই স্থানে একই দাবিতে অবরোধ করেছিলেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকদের অবরোধ অব্যাহত ছিল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ না আসায় তারা সকাল ১০টার দিকে গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা বেতন ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।কারখানার শ্রমিক সুইং শাখার শ্রমিক চামেলী, খোদেজা বেগম জানান, চলতি মাসের ১৭ দিন হয়ে গেলেও তারা বেতন পাননি। ঈদ বোনাসও পাননি। ঘরভাড়া দিতে না পেরে বাড়ির মালিকের নানা ধরনের কথা শুনতে হচ্ছে। বেতন-বোনাস না পেলে ঈদে বাড়ি যাবেন কিভাবে, এ চিন্তায় রয়েছেন।বিক্ষোভকারীরা জানায়, স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক রয়েছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা চলতি বছরের মার্চ, মে, জুন ও ২০২০ সালের মার্চ ও আগস্ট মাসের ৫০ ভাগ, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর, অক্টোবর মাসের ৩৫ ভাগ, নভেম্বর মাসের ১৫ ভাগ বেতন পাওনা রয়েছে। এছাড়াও কারখানার কর্মচারীরা ইনক্রিমেন্টসহ তাদের চার বছরের বার্ষিক ছুটি ও দু’বছরের ঈদ বোনাসের টাকা পাওনা রয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন ধরে এসব পাওনাদি পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ পাওনাদি পরিশোধের একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করলেও পরিশোধ করেনি। সর্বশেষ কর্মচারীদের পাওনা গত মার্চ মাসের বকেয়া বেতন ৭ জুলাই ও মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন ১৫ জুলাই ও ঈদ বোনাস ১৮ জুলাই পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তারিখ ধার্য্য করা হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৭ জুলাই কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ না করে তিন মাসের বকেয়া পাওনা একত্রে ১৫ জুলাই পরিশোধের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে শ্রমিকরা ছুটির দিন ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন। ঈদুল ফিতরের সময়ও আন্দোলন করে তাদের বেতন-বোনাস নিতে হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।গাজীপুর মেট্রোপলিটন শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, প্রতিমাসেই শ্রমিকরা আন্দোলন করলে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়। এটি এখন এ কারখানার নিয়মে পরিণত হয়েছে।কারখানার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক জানান, শ্রমিকদের রোজার ঈদের আগে এপ্রিল মাসের ১৯ দিনের বেতন ও ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে। এখন শুধু এপ্রিলের ১১ দিন ও মে-জুন মাসের বেতন তারা পাবেন। গত ১০ জুলাই শ্রমিকদের নিয়ে কারখানার এমডি ভার্চুয়ালি মিটিং করেছেন। মিটিংয়ে করোনাকালীন বন্ধের প্রথম ৪৫ দিনের ৫০ ভাগ ও পরের দিনগুলোর ২৫ ভাগ বেতন দেয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত না মেনে বিক্ষোভ করছেন।


 

Side banner