AlokitoBangla
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

যশোরে ভৈরবে নদী খননের নামে সরকারের গচ্চা ৩শ’ কোটি টাকা


FavIcon
মোঃ নজরুল ইসলাম,(নিজস্ব প্রতিবেদক)যশোর:
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২১, ০৩:৫৫ পিএম
যশোরে ভৈরবে নদী খননের নামে সরকারের গচ্চা ৩শ’ কোটি টাকা
যশোরে ভৈরবে নদী খননের নামে সরকারের গচ্চা ৩শ’ কোটি টাকা

যশোরে ভৈরবে গচ্চা গেলো প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা। খননের নামে বিপুল পরিমাণ এ টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও সৌন্দর্য্য বর্ধন কিছুই উপভোগ করতে পারলো না যশোরবাসী। ভৈরব নদের চেহারা আগের মতই রয়ে গেছে। অবশ্য এ কাজে সুবিধা হয়েছে দখলদারদের। মাটি কেটে দু’পাড় উঁচু করায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাসহ দখলদাররা তাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এদিকে, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যশোর শহরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনে ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খননের দাবি ছিল যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের। এ দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করে সরকার ২০১৬ সালে এ প্রকল্প পাস করে। এ বছরই ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের’ এ কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৯২ কিলোমিটার নদ খনন করা হয়। ইতোমধ্যে নদের উজান ও ভাটির ৮০ কিলোমিটারের বেশি খনন কাজ শেষ হয়েছে। জটিলতা চলছে শহরের নীলগঞ্জ থেকে কাঠেরপুল-দড়াটানা হয়ে বিরামপুর অংশের কাজ নিয়ে। সে জটিলতা গত প্রায় দু’বছর যাবৎ চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শত নির্দেশনাও কোন কাজে আসছে না। সর্বশেষ স্যালোমেশিনের ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নামমাত্র খনন কাজ করে সমস্ত কিছু গুটিয়ে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, যশোরের আলোচিত ভৈরব নদ খননে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ শহরের কাঠেরপুল থেকে বিরামপুর অংশের চার কিলোমিটার নিয়ে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে। বার বার টেন্ডার আহবান করলেও কেউ অংশ গ্রহণ করেনি। শেষমেষ পাঁচ দফা দরপত্র আহ্বানের পর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যয়ের এ কাজ পায় মেসার্স এসএস এন্ড এমটি (জেভি)। এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা গোপালগঞ্জ শহরের পাঁচুরিয়া এলাকার মধুমতি সুপার মার্কেট। শহরের কাঠেরপুল থেকে বিরামপুর পর্যন্ত নদের মোট চার কিলোমিটার খননের গড় গভীরতা ২.৭৫ মিটার ও গড় প্রশস্থ হবে ৪৫ মিটার টপ টপ। এ খনন কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট ও কাজ শেষ হবার তারিখ বেধে দেয়া ছিল ২০২০ সালের ২০ জুন। কিন্তু সে মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু আজো সেই কাজ শেষ হয়নি। কখনো থেমে আবার কখনো দ্রুতগতিতে খনন চললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নদে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতসহ নানা অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার। ভৈরবের দড়াটানা অংশে গত তিনমাস খননের কোন কাজ হয়নি। এসময়ে ঠিকাদার তার তিনটি স্কেভেটর সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে গেছেন। নদের পাড়ে পড়ে রয়েছে জং ধরা অচল একটি স্কেভেটর। এরই প্রেক্ষিতে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব খনন কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেধে দিয়েছে। এ সময়ে কাজ শেষ করার জন্য তারা ঠিকাদারের প্রতি হুশিয়ারিও জানিয়েছে।এদিকে, ভৈরব নদ খননের এ অবস্থা জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নদ পরিদর্শন করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এদিন বিকেলে তিনি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে খনন কাজের ঠিকাদার, দপ্তরের কর্মকর্তা ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। এসময় তিনি ঠিকাদারকে সাফ জানিয়ে দেন, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ভৈরব নদ খননের গোটা কাজ শেষ করতে হবে। নতুবা তাদের কাজের অর্ডার বাতিল করে পুন:টেন্ডার আহবান করা হবে।কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমান অবস্থা দেখে কেউ বলবে না এ নদটি খনন করা হয়েছে বা খনন কাজ চলছে। ভৈরব নদের দড়াটানা অংশ বর্তমানে কচুরিপানায় ঢাকা রয়েছে। এদিকে, ভৈরব নদ খনন নিয়ে যশোর শহরবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা ভৈরব নদে গচ্চা গেছে। এর সুফল মানুষ পায়নি। অহেতুক খননের নামে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। নদ খনন ও সৌন্দর্য্য বর্ধণ প্রক্রিয়া এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে নদ জুড়ে রয়েছে ময়লা ও কচুরিপানার স্তুপ। একইসাথে শুরু হয়েছে দখলের উৎসব। নদের মাটি কেটে দু’পাড় উঁচু করায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা ইতিমধ্যে খেত খামার করে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া দু’পাড়ের বাসিন্দাদের সুয়ারেজ পাইপলাইন নদের পানিতে টেনে দেয়া হয়েছে। শহরের ঘোপ নওয়াপাড় রোড অংশে এ অবস্থা দৃশ্যমান রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অংশে খনন কাজ শেষ না হওয়ায় এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বলে সূত্রটি জানিয়েছে।এ ব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও বর্ষাকাল হওয়ায় বর্তমানে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষাকাল শেষ হলেই আগামী মাস নাগাদ খনন কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে নদে অতিরিক্ত পানি রয়েছে। এ কারণে খনন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় বাড়িয়ে আগামি ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই ঠিকাদারকে খনন কাজ শেষ করতে হুশিয়ারি জানানো হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে তিনি জানান।

 

 

 

Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner