AlokitoBangla
  • ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮

রায়গঞ্জে হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজে বিধি লংঘন করে উপাদ্যক্ষ নিয়োগ


FavIcon
জহুরুল ইসলাম,(নিজস্ব প্রতিবেদক) সিরাজগঞ্জ:
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২১, ১১:১১ পিএম
রায়গঞ্জে হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজে বিধি লংঘন করে উপাদ্যক্ষ নিয়োগ
রায়গঞ্জে হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজে বিধি লংঘন করে উপাদ্যক্ষ নিয়োগ

জেলার রায়গঞ্জ চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজে সরকারি নীতিমালা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভুত উপাধ্যক্ষ নিয়োগ ও স্বাক্ষর জালে এমপিওভুক্তির  ব্যর্থ চেষ্টা ধরা পড়ল মাউশি’র হাতে। এ ঘটনায় শিক্ষক কর্মচারী  সচেতন মহল ও এলাকাবাসির মাঝে অসন্তষ্টি এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবু বক্কার সিদ্দিকের জন্ম তারিখ ২৬.০৯.১৯৫৮ ইং মোতাবেক গত ২৫.০৯.২০১৮ ইং তারিখে তার বয়স ৬০ বছর পুর্ন হলে তিনি গত ২৬.০৯.২০১৮ ইং তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য পুনঃ নিয়োগ (চুক্তিভিত্তিক) নেন। যা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ইং এর ১১.৬ নং অনুচ্ছেদের পরিপস্থি।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু বক্কার সিদ্দিক গত ৪ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে উক্ত কলেজে উপাধ্যক্ষ(শুন্য) পদে নিয়োগের জন্য ২১ দিন সময় দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন এবং তার পুর্ন নিয়োগের মেয়াদ গত ২৫.০৯.২০২০ ইং তারিখে শেষ হওয়ায পুর্ব মুহুর্তে তড়িঘড়ি করে গত ১৫.০৯.২০২০ইং তারিখে উপাধ্যক্ষ ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ পরিক্ষা গ্রহন করে গত ২০.০৯.২০২০ ইং তারিখে উপাধ্যক্ষ পদে মো. লুৎফর রহমান সেখকে এবং ল্যাব সহকারী (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পদে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগ দেন।উপাধ্যক্ষ পদে মো. লুৎফর রহমান সেখ গত ২২.০৯.২০ইং তারিখে যোগদান করলে মো. আবু বক্কার সিদ্দিক তার যোগদানপত্র গ্রহন করেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত উপাধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান সেখ জেলার রায়গঞ্জে গ্রাম পাঙ্গাসী কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারী কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলি পুরন না করেই নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কেননা উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিধি মোতাবেক আবেদন কারীর ন্যূনতম ১২ বছরের ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ে পাঠদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু মো. লুৎফর রহমান সেখ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী পুরন না করেই নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কলেজে এমপিওভুক্ত না হয়েও আর্থিক বছরের শুরুতে ব্যাংকে যে সীড দিতে হয় তাতে সর্ব প্রথমে তার নাম লিখে ও স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কলেজ তহবিল হতে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাদিসহ সকল আর্থিক বিষয় একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নিয়োগ বিধি মোতাবেক মো. লুৎফর রহমান সেখের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভের যোগ্যতা না থাকায় এবং জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ ইং অনুসারে নিয়োগ বিধি সম্মত নয়।মো. লুৎফর রহমান সেখ তার পুর্বের কর্মস্থল গ্রাম পাঙ্গাসী কলেজে বাংলা বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে তার এমপিও বর্তমানে রয়েছে। তিনি হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম কলেজ তহবিল হতে মাসিক ২৫,০০০ টাকা হিসাবে বেতন গ্রহন করছেন। তিনি স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কলেজের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাক্ষর জাল করে এমপিওভুক্তি চেষ্টার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের হাতে ধরা পড়েছে। তারপরও হাজী  ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল করে বসে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ নিয়োগ বাতিলসহ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবী জানান এলাকাবাসি। নইলে উক্ত কলেজের অপুরনীয় ক্ষতির সম্ভবনার আশংকা করছেন গভর্নিং বডির সদস্যরা।

 

Side banner