AlokitoBangla
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

প্রেম চাপা দিতে প্রেমিককে খুন লাশ গুম, প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড


FavIcon
সিলেট প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১, ১১:১৭ পিএম
প্রেম চাপা দিতে প্রেমিককে খুন লাশ গুম, প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
প্রেম চাপা দিতে প্রেমিককে খুন লাশ গুম, প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

স্বামী প্রবাসে থাকাবস্থায় ইমরান নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সিলেটের প্রবাসীর স্ত্রী সুহাদা বেগম। পরে প্রেমের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রেমিককে খুন করে শ্বশুরবাড়ির পুকুরে লাশ গুম করেন সুহাদা। এজন্য ভাড়া করেছিলেন ঘাতক জাহাঙ্গীর আলমকে।বুধবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া চাঞ্চল্যকর এ খুনের মামলার রায় দিয়েছেন।রায়ে আদালত সুহাদা বেগম ও ভাড়াটে খুনি জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আদালত সূত্র জানায়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আহমদ (২৩) ও দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়া গ্রামের বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (২১)। মামলার রায়ে খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- দুর্গাপুরের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে মাছুম আহমদ (৩০) ও মুলাগুল নয়াখেল গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২৪)।আদালতে সুহাদার দেওয়া জবানবন্দি মোতাবেক তার শ্বশুরবাড়ির পুকুরের তলদেশে গাছের সঙ্গে বস্তায় ভরে ইট দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় ইমরানের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।হত্যার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে সুহাদা আদালতকে জানিয়েছিলেন, প্রেমিক ইমরানকে পানির সঙ্গে নেশা ও ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়ির পুকুরে লাশ গুম করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মামলা দায়ের করলে তদন্তক্রমে ৪ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, কানাইঘাটের সোনাপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে ইমরান হোসেন স্থানীয় রমিজা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। তার দোকানের পাশে সুহাদা বেগম মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নব বিবাহিত সুহাদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় ইমরানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন সুহাদা।২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সুহাদা ইমরানকে ডেকে নিয়ে খুন করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবু বকর প্রথমে থানায় জিডি ও পরে অপহরণ মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিচারকার্য শুরু হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুহাদা বেগম ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড হয়।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার এবং আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অনির্বাণ দাস।

Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner