AlokitoBangla
  • ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

মাগুরায় পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্ণীতির অভিযোগ


FavIcon
আল এমরান,মাগুরা,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২২, ০৬:৩৫ পিএম
মাগুরায় পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্ণীতির অভিযোগ
মাগুরায় পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্ণীতির অভিযোগ

মাগুরা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট(পিটিআই) এর সুপার মোসাঃ শাহিদা খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারী আদেশ অমান্যসহ অনিয়ম দুর্ণীতি ও ভুয়াবিল ভাউচার তৈরী করে অর্থ হাতিয়ে সীমাহীন দূর্ণীতি করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি সুইপার প্রশান্ত ও আয়া ছাবিনা খাতুনের বেতনের টাকাও । বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধনও করেছে স্কুলের অবিভাবকরা।সুপার শাহিদা খাতুনের বিরুদ্ধে পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবিভাবক রাশিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০১৯ সালে শাহিদা খাতুন মাগুরা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর সুপার পদে যোগদান করলেও তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার সুবাদে অবৈধ্যভাবে অর্থ আদায়ে ক্ষেত্রে একজন সুকৌশলী।অতি সম্প্রতি সুপার শাহিদা খাতুনের নামে অনৈতিক ভাবে যে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পিটিআই সুপারের জন্য নির্ধারিত (ইন টাইটেল) বাসভবনে না থেকে ভায়না পৌর গোরস্থান রোডে পাঁচ শতক জমির উপর (সততা প্যালেস নামে) দুইতলা ভবন নির্মান করে নিজ বাড়িতেই থাকেন। সুপার শাহিদা খাতুন নিজ বাড়িকে ভাড়া বাড়ি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ার টাকা বাবদ প্রায় আট লাখ টাকা আতœসাৎ করেছে। পিটিআই ক্যাম্পাসের পুরানো মেহেগনি ও কাঠাল গাছ ট্রেন্ডার ও ট্রেন্ডার বর্হিভুত ভাবে কেটে প্রায় ১০লাখ টাকা আতœসাৎ করেছেন। সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তিতে কোন প্রকার ভর্তি ফি নেয়ার কথা না থাকলেও পিটিআই সুপার শাহিদা খাতুন প্রতি বছর প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৩৯০ টাকা হারে ভর্তি ফি বাবদ গড়ে প্রায় পাঁচশো ত্রিশ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা হারে চার বছরে প্রায় আট লাখ টাকা কোন প্রকার রশিদ ছাড়া বাধ্যতামুলক ভাবে অভিভাবকদের নিকট থেকে আদায় করেন। পিটিআই সুপারের যাতায়াতের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গাড়ির ব্যবস্থা আছে। এ গাড়ি বাবদ জ্বালানি ও সকল মেইন্টেনেন্স খরচ বাবদ নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তিনি ভুয়া টিএ বিল ভাউচার তৈরী করে ৪ বছরে প্রায় আট লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।করোনাকালীন সময়ে ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষন বিদ্যালয়ের করোনাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারীভাবে ওয়ার্কশীট প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কোন অর্থ না নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও প্রতি শ্রেণীতে ভর্তিবাবদ, চার বছরে পিটিআই সুপার শাহিদা খাতুন আট লাখ সাতাশ হাজার টাকা আদায় করে আতœসাৎ করেছে। তিনি এখানেই থেমে থাকেনি পরীক্ষন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা হলেও বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়নি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু কর্ণার নির্মান ব্যয় বাবদ অর্থ ও বঙ্গবন্ধু কর্ণারে বই ক্রয় না করে তার মেয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া ছেড়া কাটা বই এনে সাজিয়ে রেখেছিল। এবং বই কেনা বাবদ অর্থ উত্তোলন করে বই না কিনে তিনি তা আতœসাৎ করেছেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় (১৯ এপ্রিল) বই গুলো সরিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠায় কিছু কিছু অভিভাবকদের মুখ বন্ধ করতে ভর্তি ফি বাবদ অর্থ ফেরত প্রদান করে তাদের স্বাক্ষর করিয়ে নেন।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মাগুরা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর ইন্সট্রাক্টরদের প্রশিক্ষন বিদ্যালয় পরিদর্শনের নিমিত্তে ৮ টি মোটর সাইকেল বরাদ্দের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় (ঢাকা থেকে মাগুরা আনায়ন) বাবদ মাগুরা পিটিআই সুপারের অনুকুলে পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন।  কিন্তু সুপার শাহিদা খাতুন ঢাকা থেকে মাগুরায় মোটর সাইকেল আনায়ন বাবদ বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা আতœসাৎ করেন। বরাদ্দকৃত ৮টি মোটর সাইকেল গ্রহনে ইচ্ছুক ইন্সট্রাক্টরদের নিজ খরচে বিশ হাজার টাকা ব্যয় করে অধিদপ্তর থেকে মোটর সাইকেল গুলি মাগুরায় নিয়ে আসেন। যা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।মাগুরা প্রাইমারী টির্চাস  ট্রেনিং স্কুলের সহ-সুপার আলী আহসান জানান, সুপার ম্যাডাম পরীক্ষন বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও তার বই ক্রয় বাবদ আমাদের নিকট থেকে বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন কিন্তু সে বই তিনি বঙ্গবন্ধু কর্ণারে জমা দেননি।মাগুরা পিটিআই সুপারের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ইনটাইটেল বাসভবনটি পরিত্যক্ত বলে বর্তমান সুপার শাহিদা খাতুন দাবি করলেও ২০১৯ সালে অবসরে যাওয়া সুপার বাদল চন্দ্র জানান, আমি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের সুপার পদে কর্মরত ছিলাম। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারী কোন বাসভবন না থাকলেও পিটিআই সুপারের ইনটাইটেল বাসা রয়েছে। যেখানে বসবাস করার সরকারী ভাবে নির্দেশনা রয়েছে। সরকারী নির্দেশনা মেনে আমি  অবসরে আসার দিন পর্যন্ত পিটিআই সরকারী বাসভবনেই বসবাস করেছি। আমি অবসরে আসার পর সুপারের বাসভনটি আরো আধুনিকায়ন করা হয়েছে বলে শুনেছি।মাগুরা পিটিআই চত্বরে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকল্পে গাছ ক্রয় টেন্ডারে অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর রাশিদুল ইসলাম ফার্ম এর কর্ণধর মীর রাশিদুল ইসলাম সুমন জানান, ২০২১ সালে সরকারী টেন্ডারের মাধ্যমে আমি ১১ টি গাছের নিলাম ক্রয়ে অংশ গ্রহন করি। সেখানে ১১টি গাছের বাইরেও একই সাইজের আরো আনেক গাছ ছিল। সেগুলি নিলাম ছাড়াই পিটিআই সুপার বিক্রয় করেছেন।পিটিআই স্কুলে প্রাচীর সংলগ্ন বসবাসকারী খলিলুর রহমান বলেন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পিটিআই সুপার অনেক গুলো মুল্যবান মেহেগুনি, কাঠালসহ বেশকিছু গাছ বিক্রয় করে নিয়েছে। প্রথমে বিক্রিত কয়েকটি গাছ সরকারী টেন্ডারে হলেও পরে যে গাছ গুলি কেটে বিক্রি করা হয়েছে তার কোন টেন্ডার ছিল না বলে গাছ কাটার কাজে অংশ নেয়া শ্রমিকদের থেকে জেনেছিলাম।সুপারের দৃষ্টি থেকে বাদ যায়নি স্বল্প বেতনে (অস্থায়ীভাবে) কাজ করা পরীক্ষন বিদ্যালয়ের আয়া ছাবিনা খাতুন, সুইপার প্রশান্ত ও নৈশ প্রহরী শামীম বিশ্বাস।পিটিআই এর আয়া ছাবিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার বেতন বাইশশত টাকা, আমি স্বাক্ষর করি বাইশশত টাকায় কিন্তু সুপার ম্যাডাম আমাকে দেন সতেরশো টাকা। এ বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় সুপার ম্যাডাম আমাকে বেতন বাড়িয়ে পঁচিশশো টাকা করা হবে এবং দুই ঈদে বোনাস এর ব্যবস্থা করে দিবে বলে লোভ দেখিয়েছেন। এবং আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেছেন আমি যেন কাউকে বেতন এর বিষয়ে না বলি। যদি বলে দিই তাহলে তোমার চাকুরি থাকবে না।সুইপার প্রশান্ত জানান, আমি ৩০ বছর ধরে পিটিআই স্কুলে সুইপারের কাজ করি। এত বছরে সব স্যার অল্প অল্প করে আমার বেতন বাড়ালেও বর্তমান সুপার শাহিদা ম্যাডাম যোগদানের পর থেকে আমার বেতন ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করেছে। তবে চলতি মাস থেকে আবারও  ৫ হাজার টাকা করেই দিচ্ছে। গত তিন বছরে দুই হাজার টাকা করে কম দেয়ার কারনে আমার সংসার চালিয়ে যেতে কষ্ট হয়েছে। নৈশ প্রহরী শামীম জানান, ১৩ হাজার টাকার বেতনশীটে স্বাক্ষর করিয়ে বেতন উত্তোলন করলেও আমাকে দেয়া হতো ১১ হাজার টাকা। বিষয়টি সুপার ম্যাডামকে প্রশ্ন করার কারনে তিনি আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে চাকুরি থেকে বাদ দিয়েছেন।সুপার শাহিদা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী রাশিদুল ইসলাম আরো জানান, শিক্ষার ভাল মানের জন্য মাগুরা পিটিআই স্কুলের সুনাম রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়ম দূর্ণীতির কারনে এ প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষুন্ন হতে থাকায় সরকারী ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় নৈতিকতার জায়গা থেকে এবং শিক্ষার পরিবেশ যাতে ফিরিয়ে আনা যায় এ কারনেই আমি সুপার শাহিদা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভন্ন দ্প্তরে অভিযোগ করেছি। যার ফলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে আমাকে পুলিশি হয়রানি করছেন।নানা অনিয়ম দুর্ণীতির বিষয়ে পিটিআই সুপার শাহিদা খাতুনের কাছে সরেজমিনে তার অফিস কক্ষে গিয়ে জানতে চাইলে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলবেন না বলে দ্রুত তার কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।সুপার শাহিদা খাতুনের অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন জানান, মাগুরা পিটিআই খুলনা বিভাগের মধ্যে একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি পিটিআই এর সুপার শাহিদা খাতুন এর এহেনো কর্মকান্ডে সে সুনাম ক্ষুন্ন হতে বসেছে। বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পর আমার উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

 

 

 

 

Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner