AlokitoBangla
  • ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
সাতক্ষীরা সিলভার জুবলি স্কুল

প্রধান শিক্ষকের কথা শেষ কথা তার কথাই আইন তিনি যেমনটি চাইবেন তেমটি হবে তা না হলে চলে যাও:ক্ষুব্ধ অভিভাবক সদস্যরা


FavIcon
কালিদাস রায়,সাতক্ষীরা, প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম
প্রধান শিক্ষকের কথা শেষ কথা তার কথাই আইন তিনি যেমনটি চাইবেন তেমটি হবে তা না হলে চলে যাও:ক্ষুব্ধ অভিভাবক সদস্যরা
সাতক্ষীরা সিলভার জুবলি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথা শেষ কথা তার কথাই আইন তিনি যেমনটি চাইবেন তেমটি হবে তা না হলে চলে যাও

সাতক্ষীরা সিলভার জুবলি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিশুদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন,অভিভাবকদের সাথে চরম দুব্যাবহার ও যখন তখন অভিভাবকদের ডেকে টিসি ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে স্কুলে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। শিক্ষার  পরিবেশ ও স্কুলের  ভাবমুর্তি নষ্ট করে ফেলেছেন। সাতক্ষীরা শহরে প্রানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহি স্কুলটি প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানাজি যোগদান করার পর থেকে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার কথাই আইন তিনি সেটা করবেন সেটাই হবে। তা না হলে চলে যেতে হবে। তার হাত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার পোতা ও রেহাই পায়নি। প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জির হাত থেকে কোমলমতি শিশুদের রক্ষা ও স্কুলের ভাবমুর্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন অভিভবকরা।জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রথমিক শিক্ষক অফিসার বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন অভিভাবক সদস্য শহরের মুনজিতপুর গ্রামের কাজী আহাদুল হকের স্ত্রী সারমীন সুলতানা হীরা। তিনি তার অভিযোগে বলেন, তার দুইটি সন্তান কাজী আফিফা বিনতে নূরী (৯) ও কাজী মুনতাসীর জুবায়ের সাদ (৫) সিলভার জুবলী স্কুলে তৃতীয় ও শিশু শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। গত ৮/৩/২০২২ তারিখে আমার খালু শশুর মারা যায়। আমরা পরিবার সহ সেখানে যাই। সে কারনে আমার মেয়ে ঔইদিন স্কুলে যেতে পারেনি। পরেরদিন আমার মেয়েকে স্কুলে যেতে বললে সে বলে স্কুলে গেলে ম্যাডাম মারবে আমি স্কুলে যাব না। আমি তার সাথে স্কুলে যেয়ে ম্যাডামকে বলি আমার খালু শশুর মারা যাবার কারনে আমার মেয়ে স্কুলে আসতে পারেনি। তাকে যেন কিছু বলা না হয়। আমি স্কুল থেকে চলে আসার পর শিক্ষক ফাতেমা খাতুন আমার মেয়েকে পুরো ক্লাস কান ধরে দাড় করিয়ে রাখে। আমার মেয়ের রিউমেটিক ফিডারের সমস্যা আছে। পরেরদিন আমি স্কুলে শিক্ষক ফাতেমা জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার চরম দূব্যাবহার করে এক প্রকার স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেন। আমি বাড়িতে এসে স্কুলের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জিকে ঘটনাটি মোবাইলে জানাই এবং এরকম কাজ যদি করে তাহলে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেব। প্রধান শিক্ষক রাগান্বিত হয়ে স্কুলের সহকারি শিক্ষক ফাতেমা ও টুম্পা কে আমার বাচ্চাদের উপর এক প্রকার লেলিয়ে দিয়েছে। তারা অন্য বাচ্চাদের খারাপ কথা শিখেয়ে দেয় আমার বাচ্চাদের বলার জন্য। তারা এখানে ক্ষান্ত নয় শিশু শ্রেনীতে পড়া আমার পুত্র জুবায়ের সাদ সহপাঠিদের খেলার সময় ঝগড়া হয়। এর দুইদিন পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দূব্যাবহার করে তাড়িয়ে দেয়। গত ৬/৬/২০২২ তারিখে আমার শিশু পুত্রকে শিক্ষক টুম্পা এমন ভাবে মারপিট করে যে তার  পিটে ম্যাডামের হাতের নখের আঘাতে তার পিটে ক্ষত হয়। পরেরদিন আমি স্কুলে যেয়ে অভিভাবকদের দেখাই এবং টুম্পা ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমরা এ রকম করবো পারলে আপনার বচ্চাকে টিসি দিয়ে দিচ্ছি অন্য জায়গায় ভর্তি করান। প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি একই ভাবে আমাকে ধমক দেন এবং টিসির ভয় দেখায়।তিনি তার লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, স্কুলের প্রধান চায়না ব্যানার্জির কথা আমি যাহা করবো তাই মেনে নিতে হবে। তা না হলে কোন বাচ্চা স্কুলে পড়তে পারবে না। শুধু তাই না যে সব বাচ্চারা প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে কোচিং করে তারা সবাই ভাল আর সবাই উনার দৃষ্টিতে খারাপ। তিনি সিলভার জুবলি স্কুলের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জি ও ফাতেমা ও টুম্পা ম্যাডামের হাত থেকে স্কুলটি রক্ষা ও কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যাতে কথা চিন্তা করে এবং উক্ত তিন শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক সদস্য জানান, সিলভার জুবলি স্কুলে চলে একনায়কতন্ত্র। এখানে প্রধান শিক্ষকের কথা শেষ কথা। তিনি যেমনটি চাইবেন তেমন হবে। তার কথা নড়চড় হবে না। তিনি যখন খুশি অভিভাবক সদস্যাদের ডেকে বললবেন আপনার বাচ্চা এটি করেছে টিসি নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষকের আজ্ঞাবহ দুইজন শিক্ষক ফাতেমা ও টুম্পা চায়না ব্যানার্জির হুকুম বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে। অভিভাবক সদস্যরা আরও বলেন স্কুল প্রাঙ্গনে অঢেল জায়গা থাকলেও অভিভাবকদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। রাস্তার উপর দাড় করিয়ে রাখা হয় অভিভাবকদের। এ নিয়ে অভিভাবকরা প্রাধান শিক্ষককে বললে তিনি বলেন অভিভাবকরা রাস্তায় থাকবে স্কুলে প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের হাত থেকে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহি স্কুলটি রক্ষার জন্য শিক্ষামন্ত্রী জেলা প্রশাসকসহ উর্দ্ধেতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক সদস্যরা।এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

 

 

Side banner

সারাদেশ বিভাগের আরো খবর

Small Banner