AlokitoBangla
  • ঢাকা সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯

শিশু সন্তান হত্যা:মা খুনি, বাবা সহযোগী


FavIcon
ময়মনসিংহ,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২, ০৯:৫১ পিএম
শিশু সন্তান হত্যা:মা খুনি, বাবা সহযোগী
শিশু সন্তান হত্যা:মা খুনি, বাবা সহযোগী

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের কুয়ায় আয়েশা নামের এক শিশুর মৃতদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যরা। এলাকাবাসীর মাধ্যমে ৯৯৯-এ পুলিশ খবর পেলে লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। শিশুর মৃত্যুতে সন্দেহ হলে আয়েশার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মা আম্বিয়া খাতুন (৩০)।

দুই বছরের সন্তানকে হত্যা এবং লাশ কুয়ায় ফেলতে তাকে সহযোগীতা করেন স্বামী বাদশা মিয়া (৩৫)।ময়মনসিংহের  হালুয়াঘাট উপজেলার পূর্ব ঘিলাভূই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদি জুবেদা খাতুন। এতে আয়েশার বাবা-মাকে আসামি করেছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান খান।

থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে আম্বিয়ার সঙ্গে তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন ও তার আত্মীয়দের জমির ওয়ারিশ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় তাদের ফাঁসাতে হত্যার পরিকল্পনা করে নিহরের মা ও বাবা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতের কোন এক সময় আম্বিয়া পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার দুই বছরের শিশু কন্যাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে রাতের অন্ধকারে পার্শ্ববর্তী হালিমা খাতুনের বিশুদ্ধ পানির কুয়াতে লাশ ফেলে আসে। এ ঘটনায় তার স্বামী তাকে সহযোগিতা করে। হত্যার পর দায় তোফাজ্জলের উপর দিতে বিভিন্ন কথা ছড়ায় তারা।

মামলার বাদী জুবেদা খাতুন বলেন, এরা অমানুষ। জমির ওয়ারিশের জন্য নিজের কন্যাকে কেউ এভাবে হত্যা করতে পারে। আমি এদের ফাঁসি চাই। আর যেন কোন বাবা মা নিজের সন্তানকে এভাবে হত্যা করতে না পারে।

ওসি মো. শাহিনুজ্জামান খান বলেন, আমাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল। গভীর রাতে দুই বছরের শিশু হেঁটে হেঁটে কুয়াতে পড়তে পারে না। আর শিশুটি যেহেতু মা-বাবার সঙ্গে ছিল। তাই আমরা শিশুটির বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া তার ভাই তোফাজ্জল ও তার আত্মীয়দের ফাঁসাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী তাকে সহযোগিতা করেছে।
 

Side banner