AlokitoBangla
  • ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
banner
১৫ দিনের সময় চেয়েও পাইনি কৃষকরা

রামপালে লবন পানিতে নষ্ট হচ্ছে দুইশ বিঘা জমির ধান


FavIcon
মোঃসালমান মুহাইমিন,বাগেরহাট,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৩, ১১:১৩ পিএম
রামপালে লবন পানিতে নষ্ট হচ্ছে দুইশ বিঘা জমির ধান
রামপালে লবন পানিতে নষ্ট হচ্ছে দুইশ বিঘা জমির ধান

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষা উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের অন্যতম নদী বেষ্টিত উপজেলা রামপাল। ৩৩৫ বর্গ কিলোমিটারের এই উপজেলায় পশুর, মরাপশুর মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলসহ ৫০টির অধিক নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী ও খালের পানি লবনাক্ত হওয়ায় এই এলাকার বেশিরভাগ ধানীজমিঅনাবাদি থাকত। দীর্ঘদিন পরে পেরিখালি ও রাজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এবছর ইরি মৌসুমে কিছু নদী ও খাল আটকে বাঁধ দিয়ে মিষ্টি পানিরসংস্কার করে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু চিংড়ি মাছের পোনা ছাড়ার সময় হওয়ায়, প্রভাবশালী ঘের মালিকরা খাল কেটে ধানের জমিতে লবনপানি প্রবেশ করাচ্ছে। চিংড়ি চাষের জন্য ওঠানো লবন পানিতে পচে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টের ফসল। এর ফলে দুই শতাধিক কৃষকের ৫০ লক্ষ টাকার উপরেক্ষতি হবে। তবে ১৫-২০ দিন পরে প্রবেশ করালে ধানের ক্ষতি হতনা বলে দাবি কৃষকদের। ১৫ দিনের সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদসদস্য, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোন সুফল পায়নি হতদরিদ্র কৃষকরা।

সরেজমিনে বুধবার (০৮ মার্চ) সকালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের গিয়ে দেখা যায়, ওই ওয়ার্ডেরকালেখারবেড় এলাকার মধ্য থেকে বয়ে যাওয়া ঘরের খালের বাঁধ কেটে মৎস্য ঘেরে পানি ঢুকিয়েছেন জুলু হাজীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এমন অবস্থায়লবন পানিতে কৃষকের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুই তিনদিনের মধ্যে এসব ধানের গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাবে দাবি কৃষকদের। শুধু কালেখারবেড়নয়, রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের সিংগুরবুনিয়া, রনজয়পুর ও আড়ুয়াডঙ্গা এলাকায়ও একই ভাবে ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। এসবএলাকার ঘের ব্যবসায়ীরা এখন খাল কেটে লবন পানি ঢোকানের পায়তারা করছেন। কৃষকদের কোন আবেদন কর্নপাত করছেন না তারা।

কালেখারবেড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ সবিতা হাসলাদার বলেন, গরু বিক্রি করে এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে ৬বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১৫-২০দিন পর ধান ঘরে তুলতে পারতাম। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধটি কেটে দেওয়ায় লবন পানি ঢুকে ধান গাছ সব মরতে শুরু করেছে। অনেক অনুরোধকরেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি।

একই গ্রামের কৃষক হুমাউন কবির বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে ধান চাষ করেছিল। তখন লবন পানিঠেকাতে সকলের সম্মতি নিয়ে কালেখার খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হট্যাৎ করে ঘেরে লবন পানি প্রবেশ করাতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধটি কেটেদেয়। বাঁধটি কাটার আগে চেয়ারম্যান, কৃষি অফিসার ও ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছি। ধান কেটে ঘুরে তোলার জন্য মাত্র ১৫দিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তুকেউ আমাদের কথা শোনেনি।

রাজনগর ইউনিয়নের সিংগুরবুনিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম বলেন, সবার অনুমতি ও সম্মতি নিয়ে খাল কেটে আমরা তিন গ্রামের শতাধিক কৃষক প্রায়একশ একর জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী শেখ মোতাহার আলী, মোকছেদ শেখসহ কিছু ঘের ব্যবসায়ী একই এলাকারচামারখালী ও দোয়ানে খালের বাঁধ কেটে লবন পানি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এই খাল কেটে লবন পানি ঢোকালে আমাদের ধান সব নষ্ট হয়ে যাবে।

একই এলাকার দবির উদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, মাত্র ১৫ দিন পরে লবন পানি প্রবেশ করালে আমাদের ধানের কোন ক্ষতি হত না। যেকোন মূল্যেলবন পানি প্রবেশ ঠেকানো প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হবে। পথে বসা লাগবে এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকের।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, উপজেলার অন্তত ৩০টি খাল আটকে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। তাতে কিছু হয় না, আমরা শুধু কয়েকদিনের জন্য আটকে ধান চাষ করেছিলাম এটাই আমাদের অপরাধ। কারণ আমরা গরীব।

রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা পারভিন বলেন, ধান চাষের জন্য সকল কৃষকরা একমত হয়ে খাল আটকে ধান চাষ শুরু করেছিল।কিন্তু হট্যাৎ করে কিছু ঘের ব্যবসায়ী পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষ করতে চায়। এ কারনে মাছ চাষিরা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। মানবিক কারনে চাষিদের ১৫দিন সময়দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন, কাউকে সরকারি খাল আটকে রাখার অনুমতি দিতে পারি না। তবে ঘের ব্যবসায়ী ও কৃষকদেরমাঝে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল সেটা সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সমাধান করবেন। এছাড়া খাল না আটকে অন্যকোনভাবে ধান চাষ করা যায় কিনা, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে আলোচনা করে কাজ করার পরামর্শ দেন উপজেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

 

Banner
Side banner
Side banner