AlokitoBangla
  • ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

১৩ মাস পর সুমাইয়া হত্যার রহস্য উম্মোচন,২ আসামির লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি


FavIcon
গাজীপুর,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১, ০৯:২৮ পিএম
১৩ মাস পর সুমাইয়া হত্যার রহস্য উম্মোচন,২ আসামির লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
১৩ মাস পর সুমাইয়া হত্যার রহস্য উম্মোচন,২ আসামির লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

সুমাইয়া খাতুন (১২) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেনি। বরং তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। আদালতে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি। ঘটনার সাড়ে ১৩ মাস পর পুরো রহস্য উদঘাটনসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। পিবিআই আসামি রনিকে সোমবার গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার গাজীপুরা সাতাইশ নয়াবাড়ীর কবিরের বাড়ি থেকে ও সাঈদকে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে গাইবান্ধা জেলা সদরের রেলস্টেশনের পাশে মোহরীপাড়ায় মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের দু’দিনের মধ্যেই গাইবান্ধা ও টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।তারা হলেন- নিলফামারী জেলার ডোমার থানার চিলাহাটি মাস্টার পাড়ার রেজাউল ইসলামের ছেলে সাঈদ ইসলাম (১৯) ও লালমনিরহাট জেলা সদরের তিস্তা চৌরাটারী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রনি মিয়া (২১)।গাজীপুরের পিবিআই জানায়, তারা গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর বারেন্ডা পশ্চিমপাড়ায় ভিকটিম সুমাইয়াদের বাসার পাশে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর তারা ওই এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান।পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত মর্মে বুধবার আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাশিমপুরের বারেন্ডা পশ্চিমপাড়ার নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতো শিশু সুমাইয়ার পরিবার। একই বাড়িতে পাশের রুমে ভাড়া থাকতো আসামি রনির পরিবার। আসামি রনির বন্ধু পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া মিলন, হাসান ও সাঈদ টাকার বিনিময়ে তিন বেলা রনিদের বাসায় খেত। এই সুবাধে রনি ও তার বন্ধুরা ভিকটিম সুমাইয়াকে প্রায়ই উত্যাক্ত করতো। ফলে ভিকটিম সুমাইয়ার পরিবার অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য গত বছর নভেম্বর মাসে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।অপরদিকে আগে থেকেই আসামি রনি ও সাঈদ ভিকটিম সুমাইয়াকে ধর্ষণের জন্য সুযোগের সন্ধানে ছিল। ইতোমধ্যে ভিকটিমের পরিবার বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় রনি ও সাঈদ ভিকটিমকে ধর্ষণের জন্য অনবরত সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরপর গত বছর ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে সুমাইয়ার মা-বাবা কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর ওই রুমে যান রনি ও সাঈদ। এ সময় রনি খেলাচ্ছলে ভিকটিমকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে বিবস্র করার চেষ্টা করলে ভিকিটিম বাধা দেয়। তখন আসামি সাঈদ ভিকটিমের পা ধরে রাখে ও আসামি রনি ভিকটিমের দুই হাত বেঁধে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। একইসাথে আসামি সাঈদ তার মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। রনির পর সাঈদও ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি ও সাঈদ দু’জনে মিলে ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে ভিমটিমের গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।প্রাথমিকভাবে এটিকে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা ধারণা করে গত বছর ৩১ অক্টোবর কাশিমপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ভিকটিম সুমাইয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন পাওয়ার পর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় চলতি বছরের ৩ জুলাই কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।পরবর্তীকালে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পিবিআই, গাজীপুর স্ব-উদ্যোগে গত ১১ জুলাই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক মো: কাওছার উদ্দিন।


    

 

 

Side banner