AlokitoBangla
  • ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮

দুবাই বসে দেশের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, ৭ সহযোগী আটক


FavIcon
আলোকিত বাংলা ডেস্ক:
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২১, ০৮:৫২ পিএম
দুবাই বসে দেশের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, ৭ সহযোগী আটক
পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান

দুবাই বসে দেশের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। দেশের বাইরে পলিয়ে থেকেও দেশে চাঁদাবাজি, কন্ট্রাক কিলিং, জমি দখল, মাদক কারবারসহ অপরাধ জগতকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন পুলিশের কাছে আত্মগোপনে থাকা এ শীর্ষ সন্ত্রাসী। খুদে সন্ত্রাসীদের পাঠিয়ে এখনো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার টাকায় দুবাইয়ে আয়েশী জীবন কাটাচ্ছেন জিসান। এমন বক্তব্য পুলিশের।পুলিশের তথ্যমতে, রাজধানীর এমন কোনো এলাকা নেই যে যেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের লোক নেই। চাঁদা না দিলে গুলি, হত্যা, অপহরণ সবই করে জিসান গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। তার গ্রুপের সদস্যরা চাঁদা তুলে পাঠিয়ে দেয় বিদেশে আত্মগোপনে থাকা জিসানের কাছে।এ চক্রের সাত সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নাসির, কাওছার আহমেদ ইমন, মোহাম্মদ জীবন হোসেন, ওমর খৈয়াম নিরু, ফারহান মাসুদ সোহান, আসলাম ও মহিন উদ্দিন জালাল। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র ছাড়াও গুলি এবং ইয়াবা উদ্ধার হয়।সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) এ অভিযানের বিষয়ে কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতার আসলাম ওরফে ক্যাশিয়ার আসলাম ইতোমধ্যে অস্ত্র মামলায় ৯ বছর কারাগারে বন্দি ছিল। গ্রেফতার অন্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার বলেন, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা দুই দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। জিসান ও তার ভাই শামীম দুবাইয়ে পালিয়ে আছে। সেখানে বসে সে দেশে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে। তাকে সহযোগিতা করে কাশিমপুর কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুন্না ও মামুন ওরফে ছক্কা মামুন। কারাগারে বসে এই দুজন আবার তাদের অনুসারীদের দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করে থাকে।বিভিন্ন কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী এবং বাইরে থাকা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান নিয়মিত যোগাযোগ করছে, বলেন ডিবির এ কর্মকর্তা।একসময় ঢাকার মতিঝিল, মালিবাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানীর ব্যবসায়ীদের কাছে জিসান ছিলেন আতঙ্কের নাম। তার চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নানা গল্প সে সময় মানুষের মুখে মুখে ঘুরত। জিসান বড় হয় ঢাকার রামপুরায়। ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে খিলগাঁও এলাকায় অস্ত্র হাতে নিয়ে খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিএনপি সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় জিসানের নামও ছিল। জিসানকে গ্রেফতারে ২০০৩ সালের ১৪ মে ঢাকার মালিবাগে একটি হোটেলে অভিযানে গিয়ে গুলিতে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জিসান গা-ঢাকা দেন এবং ভারত হয়ে দুবাইয়ে চলে যান।তাকে ধরতে বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে রেড নোটিস জারি করে ইন্টারপোল। ২০১৯ সালে দুবাইয়ে জিসান গ্রেফতার হন বলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তখন জিসানকে দেশে আনতে উদ্যোগ নেয়ার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বললেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। জিসানের কোনো খবরও মেলেনি। জিসান আদৌ গ্রেফতার হয়েছে কিনা সেটি পরে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

 

 

Side banner