AlokitoBangla
  • ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮

র‌্যাবের হাতে যেভাবে ধরা পড়ল ‘সিরিয়াল কিলার’ থেকে ‘বাউল সেলিম’


FavIcon
আলোকিত বাংলা,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম
র‌্যাবের হাতে যেভাবে ধরা পড়ল ‘সিরিয়াল কিলার’ থেকে ‘বাউল সেলিম’
র‌্যাবের হাতে যেভাবে ধরা পড়ল ‘সিরিয়াল কিলার’ থেকে ‘বাউল সেলিম’

সাত বছর ধরে বাউলের ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ‘সিরিয়াল কিলার’ হেলাল। অবশেষে তাকে বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পক্ষ থেকে সে কথা জানানো হয়েছে।গ্রেফতার মো: হেলাল হোসেনের (৪৫) বাড়ি বগুড়া জেলায়।তিনি তার নিজ এলাকা বগুড়ায় বাউল সেলিম, সেলিম ফকির, খুনি হেলাল ও হাত লুলা হেলাল নামে পরিচিত।তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল হোসেন আমাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, বগুড়ায় ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের চার আসামির মধ্যে সে একজন। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। বগুড়ায় ১৯৯৭ সালে সংঘটিত আরো একটি হত্যা মামলারও আসামি তিনি। একইসাথে ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলারও আসামি তিনি। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি মামলা এবং চুরির একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।র‌্যাব বলছে, হত্যা মামলায় সাজা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের জন্য বাউলের বেশ বেছে নেয় হেলাল। এভাবেই দেশের বিভিন্ন স্টেশনে গত সাত বছর আত্মগোপনে ছিলেন হেলাল। বাউলের বেশ ধরে গান গেয়ে জীবিকাও নির্বাহ করেছেন তিনি।র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে বিশু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখেন হেলাল হোসেন। পরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মারামারিতে যোগ দেন তিনি। এর ফলে তিনি এলাকায় দুর্ধর্ষ হেলাল নামে পরিচিতি পায়। ২০০০ সালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় তার বাম হাত প্যারালাইজড হয়ে যায়, যার ফলে তার নাম হয়ে যায় ‘হাত লুলা হেলাল’।তিনি আরো বলেন, ২০১০ সালে একটি চুরির মামলায় সে জেলে যায়। ২০১১ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। চুরির মামলায় জামিনে বের হওয়ার সময়ই বিদ্যুৎ হত্যা মামলার রায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। এই রায়ের পর তিনি পালিয়ে যান এবং ফেরারি জীবন শুরু করেন। মূলত ২০১৫ সাল থেকে তার এই ফেরারি জীবন শুরু হয়।খন্দকার আল মঈন জানান, ফেরারি জীবনে প্রথমে হেলাল বগুড়া থেকে ট্রেনে ঢাকায় আসেন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ-আমানত বাজারে কিছু দিন ছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে যান সিলেটের হজরত শাহজালালের মাজারে। সেখানে বেশ কিছু দিন ছিলেন। তারপর বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ফেরারি জীবন শুরু হয় তার। শাহজালালের মাজার থেকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে যান। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরে বাউল গান গাইতেন তিনি। এভাবে গান গেয়ে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

যেভাবে র‌্যাবের নজরে:
বছর ছয়েক আগে ইউটিউবে একটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হয়। ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিওটিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাউল বেশধারী এক ব্যক্তিকে দেখানো হয়। র‌্যাব বলছে, তিনিই হেলাল হোসেন।কিন্তু এত পুরোনো একটা ভিডিও হঠাৎ কিভাবে এলো র‌্যাবের নজরে, যেখানে ওই ব্যক্তিকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেখানো হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলছেন, মাস ছয়েক আগে এক ব্যক্তি র‌্যাবকে জানায়, বগুড়ায় ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের আসামি হেলাল হোসেনের চেহারার সাথে ওই বাউল মডেলের চেহারার মিল রয়েছে।এ সন্দেহের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে র‌্যাব। বিদ্যুৎ হত্যা মামলার এজাহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, এই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হেলাল হোসেনের কথা।

যেভাবে মিউজিক ভিডিওতে হেলাল:
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল’ গানটির শুটিং চলার সময় গানটির পরিচালক বলেন, ‘একজন বাউল মডেলের প্রয়োজন।’ তখন স্থানীয়রা পরিচালককে হেলালের কথা বলেন; যিনি নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনে ‘সেলিম ফকির’ নামে পরিচিত ছিলেন। এরপর তার সাথে যোগাযোগ হলে ওই মিউজিক ভিডিওতে তাকে নেয়া হয়।

 

 

 

 

Side banner