AlokitoBangla
  • ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮

চমকে ভরা ছিল ২০২১ ‘র ফুটবল


FavIcon
স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ০৩:৩৬ পিএম
চমকে ভরা ছিল ২০২১ ‘র ফুটবল
চমকে ভরা ছিল ২০২১ ‘র ফুটবল

এ বছর বেশ কিছু উত্তেজনাকর ঘটনায় ঠাসা ছিল পুরো ফুটবল ক্যালেন্ডার। চমকের সাথে সাথে ফুটবল বিশ্ব করোনা পরিস্থিতিতে আবারো একটি কঠিন বছর পার করেছে। এর মধ্যে শীর্ষ দুটি ঘটনা হলো সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ত্যাগ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা।দুই দশক আগে যে ক্লাব দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সেই ক্লাবের মাধ্যমেই বুট জোড়া তুলে রাখার ইচ্ছা ছিল ফুটবল বিশ্বের যাদুকর মেসির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। রোনালদোর ইউনাইটেডে ফেরাটাও অনেকটাই কল্পনাতীত ছিল। এসব ঘটনা সাধারণত একই বছরে ঘটার বিষয়টিও বিরল। সে কারণেই ২০২১ সাল অনেকাংশেই ফুটবল ইতিহাসে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ত্যাগ :
ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোও শেষ পর্যন্ত দাবি জানিয়ছিলেন বার্সেলোনার সাথে চুক্তি নবায়ন করতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। কিন্তু সব জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকে হতবাক করে চুক্তিপত্রে শুধুমাত্র লিওনেল মেসির শেষ স্বাক্ষরটাই করা বাকি ছিল। ফ্রি এজেন্টে মেসির মত একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড় বার্সেলোনার সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছেন সেই গুজব আর মিথ্যা প্রমাণিত হয়নি। বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত জানিয়ে দেয় করোনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া কাতালান ক্লাবটি আর মেসির মত খেলোয়াড়ের ভার বহন করতে পারছে না।এমনকি শেষ চেষ্টা হিসেবে প্রিয় ক্লাবে থাকার জন্য মেসি তার বেতন ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্যও রাজী হয়েছিলেন। কিন্তু নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়টিকে ধরে রাখার সাহস আর দেখাতে পারেনি বার্সেলোনা। ক্লাব ছাড়ার দিন সংবাদ সম্মেলনে তাই মেসি নিজের আবেগকে প্রশমিত করতে পারেননি। কথা বলতে গিয়ে বারবার তাকে চোখ মুছতে দেখা গেছে। শুধুমাত্র আর্থিক কারণে তিনি আর বার্সেলোনায় থাকতে পারছেন না- এমন কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল আর্জেন্টাইন তারকার।বার্সেলোনার ছাড়ার পরের দিনই প্যারিসের জায়ান্ট পিএসজি মেসিকে লুফে নেয়। হাজারো ভক্ত-সমর্থকদের কাঁদিয়ে স্পেনের অধ্যায় শেষ করে মেসি পাড়ি জমান ইউরোপীয়ান ফুটবলের অন্যতম ধনী ক্লাব পিএসজিতে।ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা : লিওনেল মেসি যদি ট্রান্সফার বাজারে এতবড় ঘটনরা জন্ম দিতে পারেন তবে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কেন পিছিয়ে থাকবেন। মেসির ঘটনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ট্রান্সফার জগতে তোলপাড় থাকলেও রোনালদোর দলবদল হয়েছে অনেকটাই আকস্মিক। মেসির সাথে অবশ্য রোনাল্ডোর দলবদলের ঘটনার কোনোই মিল নেই। শুধুমাত্র নতুন চ্যালেঞ্জ নিতেই জুভেন্টাস থেকে রোনাল্ডো পুরনো ডেরায় ফিরে এসেছেন।২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে যখন জুভেন্টাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তখন ইতালিয়ান জায়ান্টদের মূল লক্ষ্যই ছিল রোনালদোকে দলে ভিড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তোলা। কিন্তু রোনালদোকে সাথে নিয়ে তিন বছরে সেই লক্ষ্যের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি তুরিনের জায়ান্টরা। আর তাই রোনালদো নিজেই অনেকটা জুভেন্টাস ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। তারই ধারাবাহিকতায় যখন দল ছাড়ার আগ্রহ ট্রান্সফার মার্কেটে প্রকাশ করেন সাথে সাথে প্রথম দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি তার দিকে হাত বাড়ায়। এনিয়ে রোনালদোর এজেন্টের সাথে দফায় দফায় আলোচনাও করেছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যে অর্থ দাবি করেছিল তার কারণেই হোক বা অন্য কোনো অজানা কারণে পেপ গার্দিওলার দল পর্তুগীজ সুপারস্টারের সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি। আর এই সুযোগে রোনালদোকে দ্বিতীয় দফায় দলে নিতে সাবেক ক্লাব ইউনাইটেড কোন ভুল করেনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লাল জার্সিতে ক্যারিয়ারের আরো একটি ও সম্ভবত শেষ অধ্যায় এখন কতটা রাঙ্গাতে পারেন রোনালদো সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।ইউরো ২০২০’এ ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের দুর্ঘটনা : উয়েফা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে ফেবারিটের তকমা গায়ে লাগিয়েই মাঠে নেমেছিল ডেনমার্ক। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাদের দলের খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়ই স্পট লাইটে আসতে পেরেছেন। তার মধ্যেই নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ইন্টার মিলানের এই মিডফিল্ডার ইউরো শুরুর আগে থেকেই টুর্ণামেন্টের যে কয়জন তারকা খেলোয়াড় সামনের দিকে ছিলেন সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। মাঠের ভিতরেই সতীর্থদের সহযোগিতায় পুরো মেডিকেল টিম যেভাবে এরিকসেনকে চিকিৎসা দিয়েছে সেই দৃশ্য পুরো ফুটবল বিশ্বকে শিহরিত করে তুলেছিল। হাসপাতালে নেবার আগ পর্যন্ত এরিকসেন ছিলেন সংজ্ঞাহীন। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে তার জ্ঞান ফেরার খবর আসে, এমনকি সতীর্থদের ম্যাচে অংশ নেয়ারও অনুরোধ জানান তিনি। ওই মুহূর্তে পুরো ড্যানিশ দলের মানসিক অবস্থা সহজেই অনুমেয়। ম্যাচটিতে ফিনল্যান্ড ১-০ গোলে জয়ী হয়েছিল। জুনের ওই ঘটনার পর থেকে অভিজ্ঞ এই প্লেমেকার এখনো ফুটবলের বাইরে রয়েছেন। শারিরীক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতোমধ্যেই ইন্টারের সাথে তার চুক্তিও বাতিল হয়ে গেছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বনাম কোকা কোলা : বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জুনে ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে খেলতে নেমেছিল পর্তুগাল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ভর করে এবারও তারা টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যস্থির করেছিল। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ডের পারফরমেন্স নিয়ে সবসময়ই ফুটবল বিশ্বের গণমাধ্যম বেশ সড়ব থাকে। কিন্তু এবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাঠের বাইরের এক ঘটনায় রোনালদোকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়।সংবাদ সম্মেলর বসে রোনালদো সামনে রাখা দুটি কোকা কোলার বোতল টেবিল থেকে নামিয়ে রাখেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন এসব কোমল পানীয়র পরিবর্তে সবাইকে সাধারণ পানি পান করার জন্য। সংবাদ সম্মেলনের ওই দৃশ্যটি টুর্নামেন্টে অনেক বড় এক নাটকের জন্ম দেয়। এই ঘটনায় কোকা কোলা কোম্পানী মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যে প্রায় চার বিলিয়ন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল বলে পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্টে দাদি উঠেছে।রোনালদোর এই ঘটনার পর আরো কয়েকজন খেলোয়াড়ও এর পুনরাবৃত্তি করেন। এর মধ্যে পল পগবাও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আয়োজক কমিটি টুর্নামেন্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হওয়া সত্তেও সংবাদ সম্মেলনে কোকের বোতল আর রাখেননি।ইউরোপীয়ান সুপার লিগ বিতর্ক : ইউরোপের বেশ কিছু শীর্ষ ক্লাব নিয়ে প্রস্তাবিত ইউরোপীয়ান সুপার লিগের পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় কম হয়নি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ছয় ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি ও টটেনহ্যাম ছাড়াও এসি মিলান, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস,এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এই লোভনীয় সুপার লিগে নিজেদের সম্পৃক্তার ঘোষনা দেয়। নিয়মিত প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে ক্লাবগুলোর এই বিদ্রোহী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রধান সংস্থা ফিফা ও উয়েফা। দুই সংস্থা থেকেই এই ক্লাবগুলোকে সড়ে আসার আহবান জানানো হয়, নতুবা যেকোনো ধরনের বড় সিদ্ধান্তের হুমকি দেয়া হয়। সর্মথকরাও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। মূলত রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সাথে আরো কয়েকজন প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তি মিলে নতুন এই লিগের পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসে। এই লিগে খেললে ক্লাবগুলোও আর্থিকভাবে বিশাল লাভবান হবে, এমন লোভও দেখানো হয়। কিন্তু পুরো বিষয়টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও উয়েফা ইউরোপা লিগের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দেখা দেয়। বিতর্কিত এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়সহ ফুটবল বিশেষজ্ঞরা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই প্রস্তাব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে আসে বেশীরভাগ ক্লাব। যদিও রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস এখনো তাদের অবস্থান পুরোপুরি নিশ্চিত করেনি। উয়েফা ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনার সাথে জড়িত ১২টি ক্লাবকে আর্থিক জরিমানাও করেছে।চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র নিয়ে নাটকীয়তা : বছর শেষের চমক ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র নিয়ে উয়েফার কাণ্ড। 

Side banner