AlokitoBangla
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ইরানে বাড়ছে ইসরাইলি হামলার শঙ্কা!


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২১, ০৫:১৬ পিএম
ইরানে বাড়ছে ইসরাইলি হামলার শঙ্কা!
ইরানে বাড়ছে ইসরাইলি হামলার শঙ্কা!

লোহিত সাগরে কিছু দিন আগেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সাথে যৌথ মহড়া করেছে ইসরাইলি, আমিরাতি এবং বাহরাইনের নৌবাহিনী।এই মহড়ার ঠিক আগেই ইসরায়েলের বন্দর নগরী ইলাতের ঠিক উত্তরে মরুভূমির এক বিমানঘাঁটিতে সাত দেশের অংশগ্রহণে বিমান মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।এই মহড়াগুলোর অন্যতম লক্ষ্য ইরানকে একটি কড়া সতর্কবার্তা পাঠানো এবং কৌশলগত জোটের উপর গুরুত্বারোপ করা। অপরদিকে সম্প্রতি ইরানও বড়সড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এসব ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইরানের পরমানু কর্মসূচির বিরুদ্ধে ইসরাইলকে অচিরেই একাকী ব্যবস্থা নিতে হয় কি না তা নিয়ে ক্ষুদ্র দেশটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার জন্য ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করতে দেশটির সরকার এক শ' ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা প্রায় প্রতিদিনই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।সম্ভাব্য কী ঘটনা ঘটতে পারে, তা নিয়ে আমি (প্রতিবেদক) ইরান বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের কাছে মতামত জানতে চেয়েছিলাম।একজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আমাকে বলেন, 'ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোন আগ্রহ ইসরাইলের নেই। তবে আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না। তিনি বলেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতির আলোকে, আমরা সামরিক সক্ষমতাসহ সব বিকল্প এবং পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।এমন সময় এই সামরিক আস্ফালন শোনা গেল যখন ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে ইরান এবং পাঁচটি বিশ্বশক্তির (পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ) মধ্যে আলোচনা চলছে। ওই চুক্তিটি 'জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন' (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত। এ সম্পর্কিত পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবার কথা আগামী ২৯শে নভেম্বর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়।জেসিপিওএ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে সীমিত করেছিল এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আংশিক প্রত্যাহারের বিনিময়ে অধিকতর পরিদর্শনের জন্য ইরানের স্থাপনাগুলো খুলে দিয়েছিল। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন, যাতে ইসরাইলের সায় ছিল।নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার তারিখ নির্ধারণের পরপরই ইরান জানিয়েছে যে, তারা ২৫ কেজি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে যা প্রায় ৬০% বিশুদ্ধ। একটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য যতটুকু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন এটা তার প্রায় কাছাকাছি। এছাড়া আরো ২০% বিশুদ্ধ আরো ২১০ কেজির বেশি ইউরোনেয়িামও সমৃদ্ধ করেছে ইরান। যদিও তেহরান জোর দিয়ে বলছে এগুলো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, তারপরও এমনকি ইরানি বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেছেন যে, এর আগে এই ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশগুলোর কাছেই ছিল।ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, 'ইরানি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য উপযুক্ত উপাদান তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যা অতীতে ছিল না।ওই কর্মকর্তা বলেন, 'এই বিষয়টি ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে'।ইসরাইলি প্রতিরক্ষা সংস্থা অনুমান করছে যে, ইরান যদি চায় তাহলে এটি এখন এক মাসের মধ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জমা করতে পারে।এই ধরনের অস্ত্র তৈরির জন্য একটি ওয়ারহেড তৈরি করতে হবে যা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে স্থাপন করা যেতে পারে। এর জন্য সময়সীমা গণনা করা আরও কঠিন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, এটি তৈরি করতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।ইসরাইলেরও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এই বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই অস্পষ্টতা রাখার একটি সরকারি নীতি বজায় রাখা হয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইরান ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রতি একটি হুমকি। ইরান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং এর কর্মকর্তারা প্রায়শই এই বিশ্বাসকে সমর্থন করেন যে, এটি শেষ পর্যন্ত বিলীন হয়ে যাবে।যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলি, যাদের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, তারাও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার গভীর বিরোধিতা করছে। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে ঠিক কোন পর্যন্ত তাদের নিজেদের স্বার্থ ইসরায়েলকে একটি সামরিক পদক্ষেপ নেয়ায় সহায়তা করা থেকে ঠেকিয়ে রাখবে।সাবেক ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রর ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করার সময় ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিপদ সম্পর্কে প্রথম সতর্ক করেছিলেন। বর্তমানে তিনি জেরুজালেম ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো।ইসরায়েলের হামলার হুমকি তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি পরামর্শ দেন যে, ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি রুখতে ইসারইলের গোপন প্রচেষ্টাই আরও বেশি কার্যকর হতে পারে।তিনি বলেন, 'তারা প্রমাণ করেছে যে তারা এটা করতে পারে,স্পষ্টতই ইরানের একটি উচ্চস্তরে অনুপ্রবেশ রয়েছে।এক দশক আগে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যাহত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমন্বিতভাবে স্টাক্সনেট নামে কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করে হামলা চালায় বলে খবর রয়েছে।অতি সম্প্রতি, ইরান তার শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসিন ফখরিজাদেহকে নাটকীয়ভাবে হত্যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে। তাকে তেহরানের কাছে একটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার-সহায়তায় চালিত মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেই সাথে তার পারমাণবিক স্থাপনায়ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।যদিও পরবর্তীতে কী ঘটবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে, তবে তারা একটি বিষয়ে একমত যে, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে আসন্ন আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্ধারিত হয়েছে। এই অস্থির অঞ্চলের জন্য এর চেয়ে বেশি ঝুঁকি আর হতে পারে না বলে একমত তারা।ওয়াশিংটন বলেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে 'চিরকালের জন্য যুদ্ধ' বন্ধ করতে চায়। তবে এটি সতর্ক করেছে যে এটি ইরানের ক্ষেত্রে তারা 'অন্য বিকল্পের' দিকে গুরুত্ব দেবে এবং এক্ষেত্রে তাদের সামরিক শক্তি নমনীয় করতে দেখা গেছে। তবে ইরানের পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ রুখতে কৌশলবিদরা আসলেই যেটি চান- সেটির জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে রাখার সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


 

Side banner