AlokitoBangla
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের অনেক কষ্ট করতে হয়


FavIcon
আলোকিত বাংলা ডেস্কঃ
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২১, ০৯:৩০ পিএম
উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের অনেক কষ্ট করতে হয়
উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের অনেক কষ্ট করতে হয়

উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাধার সম্মূখীন হয় তারা। পরিবার থেকে বেশি বাধাপ্রাপ্ত হয়। তার স্বামী থাকে, সংসার থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা হয় না।এক সাক্ষাৎকারে দেশের প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম এসব কথা বলেন।চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ভালো। আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে সব বিভাগে নয়। গাইনি ও অবস বিভাগে নারীদের উচ্চশিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। আমাদের ওজিএসবিতেই ২২ শতাধিক (উচ্চতরডিগ্রিধারী নারী) সদস্য রয়েছেন। এটা সমাজের জন্য খুবই ভালো। তবুও আমরা মনে করি, বিভিন্ন বিভাগেও নারী চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়া উচিত।চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য পরামর্শের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রখ্যাত এ চিকিৎসক বলেন, নারীদের এক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তান দেখার দায়িত্ব যাতে স্বামীও নেন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও নেন। এটা নন মেডিকেল মেয়েদের ক্ষেত্রেও ভাবতে হবে।অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বলেন, নারীদের প্রতি আরও শ্রদ্ধা রাখতে হবে। আরও পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। নারীদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।তিনি বলেন,  করোনা মোকাবেলায় নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আমরা সবদিক দিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সময়ে সমাজের প্রতি আস্থা রেখে নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে চলতে পারতাম। কিন্তু এক বিংশ শতাব্দী আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে নারী নিগ্রহের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটা প্রতিরোধ করতে হবে।অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলিজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)-এর সাবেক সভাপতি বলেন, আমরা যখন ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনা করেছি, তখন একা একাই পুরান ঢাকা পর্যন্ত যেতে পারছি। কিন্তু এখন আমাদের মেয়েদের তো রাত ৮টার পর তো তাদের একা একা যেতে দিতে পারব না। সেই নিরাপত্তাটা এখন আর নেই।কর্মক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকের নিগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এখন হাসপাতালে নারী চিকিৎসকরাও নিরাপত্তাহীন। চিকিৎসকদের ওপর হামলাই তো অপরাধ। আর নারী চিকিৎসকের ওপর হাত তোলা তো আরও গর্হিত অপরাধ, বর্বরোচিত কাজ। এই কাজটা কারা করেন? যারা আমাদের সমাজের তারাই তো করেন। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের আস্থার জায়গাটা হলো হাসপাতাল। এখানে তিনি নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে রোগীদের চিকিৎসা করবেন। এখানে যদি কিছু ঘটে যায়, তাহলে সবকিছু দায়ভার ডাক্তার নিতে পারে না।সরকারি হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের বাসস্থানের সমস্যা প্রসঙ্গে ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, একজন ডিস্ট্রিক্ট জজের যে অবস্থান আছে, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য যে অবস্থান আছে এর একশ ভাগের এক ভাগও একজন চিকিৎসকদের জন্য নেই। এটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। এটা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য ব্যর্থতা, এটা সরকারেরও ব্যর্থতা। আমাদের জন্যও ব্যর্থতা। এ বৈষম্য দূর হওয়া দরকার।

 

 

Side banner