AlokitoBangla
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দেড় বছর পর নিপা হত্যার রহস্য উদঘাটন:পিবিআই


FavIcon
আলোকিত বাংলা,প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২১, ১১:২৫ পিএম
দেড় বছর পর নিপা হত্যার রহস্য উদঘাটন:পিবিআই
ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

মেঘনা নদী থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করে। শনাক্ত হওয়া লাশটি নরসিংদীর নিপা আক্তারের।পরে নিপার মা কোহিনুর বেগম নরসিংদী সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে নৌ-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে প্রায় দেড় বছর পর নিপা হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।তিনি জানান, প্রতিবেশী আমিনুলের সঙ্গে নিপার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিপার সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি জানার পর মেনে নেয়নি আমিনুলের পরিবার। পরে অন্য জায়গায় নিপার বিয়ে হয়। এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার ছিলো নিপার। এক পর্যায়ে আমিনুলের সঙ্গে নিপার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায় তার স্বামী। এতে নিপার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে সন্তানসহ বাবার বাড়িতে রেখে আসেন। এর মধ্যে নিপার সঙ্গে আমিরুলের আবার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে নিপা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এর মধ্যে আমিরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন নিপা। কিন্তু পরিবারের বাঁধার কারণে বিয়ে না করে নিপাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমিরুল।তিনি আরও জানান, গত বছরের ২৪ এপ্রিল রাতে বিয়ের কথা বলে মেঘনা নদীতে নিয়ে নিপাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীয় ভাসিয়ে দেয় আমিরুল। আমিরুলসহ এই কিলিং মিশনে অংশ নেন সাতজন। এর মধ্যে আমিরুলের বন্ধু সুজন মিয়া ও চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, নিপাকে হত্যার পর চরের কোথাও লাশটি চাপা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু নদীর সবদিকে জেলেদের উপস্থিতি থাকায় উপায় না দেখে তারা নিপার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুলের সহায়তায় লাশটি দাফন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিপাকে শনাক্ত করা হয়।এক প্রশ্নের জবাবে পিবিআইয়ের এসপি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, প্রধান অভিযুক্ত আমিরুল বিদেশে পলাতক বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত নই, আমরা তাকে খুঁজছি। এছাড়া কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া বাকি চারজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

Side banner