AlokitoBangla
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

হালাল উপার্জন ও হারাম বর্জন


FavIcon
অনলাইন ডেস্কঃ
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১, ০৪:১৫ পিএম
হালাল উপার্জন ও হারাম বর্জন
হালাল উপার্জন ও হারাম বর্জন

ইসলাম উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে যেসব কাজের অনুমতি রয়েছে এবং যে সম্বন্ধে কোনো নিষেধ বাণী নেই, তাই হালাল বা বৈধ। হালালের বিপরীত হলো হারাম। হারাম সে কাজকে বলে, যা শরিয়ত প্রবর্তক অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং যে কাজ করলে পার্থিব জগত ও আখিরাতে শাস্তি ভোগ করতে হবে। পৃথিবীর সব বস্তুই মৌলিকভাবে বৈধ। তবে আল্লাহ তায়ালা যদি কোনো বস্তুকে হারাম বলে ঘোষণা করেন তবে কেবল সেটিই হারাম বলে গণ্য হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘সেই আল্লাহই তোমাদের জন্য জমিনকে নম্র্র-মসৃণ, বিনীত করেছেন। অতএব, তোমরা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো এবং আল্লাহর রিজিক আহরণ করো।’ (সূরা মুলক-১৫)
হালাল রিজিক উপার্জন করা ফরজ। হালাল উপার্জনে বরকত লাভ হয়, বান্দার মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। আর যে হালাল পন্থায় তাকওয়ার সাথে দুনিয়া অন্বেষণ করে সে শহীদের মর্যাদা পায় এবং হালাল খাদ্যে অন্তরে প্রশান্তি আসে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে অসংখ্য জায়গায় হালাল উপার্জনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমনÑ মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যখন সালাত সমাপ্ত হয়, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।’ (সূরা জুমুআ-১০)
অন্য আয়াতে হালাল খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা-১৬৮) রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পর আরেকটি ফরজ।’ (বায়হাকি-৬/১২৮)
নিজ হাতে উপার্জিত হালাল রিজিক সর্বোত্তম রিজিক। নবী-রাসূলদের জীবনই হলো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। হজরত আদম আ: কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হজরত দাউদ আ: তৈজসপত্র, লৌহবর্ম ও অস্ত্র তৈরি করে বিক্রয় করতেন। আমাদের প্রিয় নবী সা: বাল্যকালে ছাগল চরাতেন এবং যৌবনে খাদিজা রা:-এর ব্যবসা পরিচালনা করে রোজগার করেছেন। মোট কথা, প্রত্যেক নবীই কোনো না কোনো পেশা অবলম্বন করেছিলেন। প্রিয় নবী সা: বলেছেন, ‘নিজের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত খাদ্যের তুলনায় উত্তম খাবার কেউ খেতে পারে না। আর আল্লাহর নবী হজরত দাউদ আ: শ্রম করে উপার্জন করতেন ও খাবার জোটাতেন।’ (সহিহ বুখারি-২০৭৭) ইসলাম অলসতা, কর্মবিমুখতা পছন্দ করে না। হালাল উপার্জনে আত্মনিয়োজিত ব্যক্তি কর্মঠ হিসেবে গড়ে ওঠে। রাসূলুল্লাহ সা: বর্ণনা করেন, ‘তোমাদের কারো রশি দিয়ে কাঠ বেঁধে এনে তা বিক্রি করা এবং তা দিয়ে নিজের সম্মান বাঁচানো, মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি-১৪৭১) হজরত রাফে ইবনে খাদিজা রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহ সা:কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি? জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তির নিজস্ব শ্রমলব্ধ উপার্জন ও সততার ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়।’ (মুসনাদে আহমাদ-৪/১৪১)
হালাল উপার্জন না করার পরিণাম সম্বন্ধে হাদিসে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। হজরত জাবির রা: থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে দেহের গোশত হারাম খাদ্য দিয়ে গঠিত, তা বেহেশতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্য দিয়ে গঠিত দেহের জন্য জাহান্নামের আগুনই উত্তম।’ (মেশকাত-২৬৩৪) হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। উপার্জন হালাল না হলে বান্দার ইবাদত ও দোয়া কোনো কিছুই কবুল হবে না। হাদিস শরিফে এসেছেÑ রাসূলুল্লাহ সা: এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করেছে, যার চুলগুলো এলোমেলো, শরীর ধুলামলিন যে আসমানের দিকে হাত তুলে ইয়া রব! ইয়া রব! বলছে অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, তার জীবিকা হারাম। এতদসত্ত্বেও কিভাবে তার দোয়া কবুল হতে পারে?’ (সহিহ মুসলিম-২৩৯৩)
হারাম জিনিস ভক্ষণ ও হারাম উপার্জন ব্যক্তি সমাজ ও জাতির জন্য চরম ক্ষতিকর। হারাম বস্তু মানুষের দেহ ও মনের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, নৈতিক অধঃপতনের প্রেরণা জোগায়। যেমন মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল এবং দেশের অমূল্য সম্পদ যুবসমাজকে ধ্বংসের মোক্ষম হাতিয়ার। সুদ শোষণের শক্তিশালী মাধ্যম। সুদ প্রথা ধন-সম্পদকে সমাজের মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে কুক্ষিগত করে দেয়। তাই আল্লাহ তায়ালা সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে।’ (সূরা আলে ইমরান-১৩০)।মোটকথা, প্রতারণা, সুদ-ঘুষ, ওজনে কম দেয়া, দ্রব্যে ভেজাল দেয়া, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় ইত্যাদি প্রত্যেকটি কর্মই হারাম উপার্জনের সাথে জড়িত। তাই মুমিনের প্রধান দায়িত্ব হালাল উপার্জন করা এবং হারাম থেকে বিরত থাকা। এর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত কল্যাণ।


লেখক : খতিব, রোশাদিয়া শাহী জামে মসজিদ, উত্তরা, ঢাকা।

 

Side banner