AlokitoBangla
  • ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
banner

কোরবানির ইতিহাস গুরুত্ব ও ফজিলত


FavIcon
আলোকিত বাংলা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৩, ০৬:২১ পিএম
কোরবানির ইতিহাস গুরুত্ব ও ফজিলত
কোরবানির ইতিহাস গুরুত্ব ও ফজিলত

কোরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ মূল ধাতু থেকে নির্গত। অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা, প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট জন্তুকে একমাত্র আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি পাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে মহান আল্লাহ পাকের নামে জবাই করাই হলো কোরবানি।

কোরবানি ইসলামের অন্যতম এক নিদর্শন। এর হুকুমের ব্যাপারে ইমামদের মতবিরোধ রয়েছে। জমহুর ওলামাদের কাছে কোরবানি দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা আর হানাফি মাজহাবের মতে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

এখন কথা হলো- কোরবানি কারা করবে? যারা জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিজেদের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত তোলা সোনা বা এর সমমূল্যের মালিক হয়, তাহলে তাদের উপর কোরবানি করা আবশ্যক। অর্থাৎ যারা এই তিনদিনে ৫৮,১৭০ টাকার মালিক থাকবে।

কোরবানির ইতিহাস:

১. পৃথিবীর ইতিহাসে হজরত আদম আলাইহিস সালামের দুই পুত্রের কোরবানির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কোরবানি সূচনা হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَ اتۡلُ عَلَیۡهِمۡ نَبَاَ ابۡنَیۡ اٰدَمَ بِالۡحَقِّ ۘ اِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنۡ اَحَدِهِمَا وَ لَمۡ یُتَقَبَّلۡ مِنَ الۡاٰخَرِ ؕ قَالَ لَاَقۡتُلَنَّکَ ؕ قَالَ اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰهُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ

‘আর তুমি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের সংবাদ যথাযথভাবে বর্ণনা কর, যখন তারা উভয়ে কুরবানী পেশ করলো। এরপর তাদের একজন থেকে গ্রহণ করা হলো, আর অপরজন থেকে গ্রহণ করা হলো না। সে বললো, ‘অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করবো। অন্যজন বললো, ‘আল্লাহ কেবল মুত্তাকিদের থেকে গ্রহণ করেন।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ২৭)

لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ

‘যদি তুমি আমার প্রতি তোমার হাত প্রসারিত করো আমাকে হত্যা করার জন্য, আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য আমার হাত তোমার প্রতি প্রসারিত করবো না। নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ২৮)

২. মুসলিম উম্মাহর জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কোরবানি করার মাধ্যমে দ্বিতীয় ইতিহাসের এক নতুন মাত্রা তৈরি হয়। তবে ইসলামে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের স্বরণে কোরবানি করা হয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেছেন-

‘কোরবানি হলো তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত।’

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-


فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعۡیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیۡۤ اَرٰی فِی الۡمَنَامِ اَنِّیۡۤ اَذۡبَحُکَ فَانۡظُرۡ مَاذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ ۫ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِیۡنَ  فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَ تَلَّهٗ لِلۡجَبِیۡنِ

‘এরপর যখন সে তার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছলো, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। এরপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করলো এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল।’ (সুরা আস-সাফফাত: ১০২-১০৩)

কোরবানির গুরুত্ব:

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ

‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ ও কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউছার: আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-

قُلۡ اِنَّ صَلَاتِیۡ وَ نُسُکِیۡ وَ مَحۡیَایَ وَ مَمَاتِیۡ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ

‘(হে আমার হাবিব!) আপনি বলুন যে, অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ, সব কিছুই মহান প্রতিপালকের জন্য।’ (সুরা আনআম: আয়াত ১৬২)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-

وَ یَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡلُوۡمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ

‘তারা কতক নির্দিষ্ট দিনে গৃহ পালিত চতুষ্পদ জন্তুর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করে।’ (সুরা হজ: আয়াত ২৮)

لَنۡ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوۡمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰکِنۡ یَّنَالُهُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ

‘আল্লাহর কাছে (কুরবানীর পশুর)) গোশত ও রক্ত পৌঁছে না বরং তোমাদের অন্তরের তাকওয়া পৌঁছে থাকে। (সুরা হজ: আয়াত ৩৭)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে বলেন, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোরবানির দিন পশু কোরবানির চাইতে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই। কেয়ামতের দিন জবাই করা পশুকে তার শিং ও খুরসহ হাজির করা হবে। কোরবানির জন্তুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা খোলা মনে এবং সন্তুষ্টি চিত্তে কোরবানি কর।’ (মেশকাত শরীফ)

কোরবানির ফজিলত:

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত জায়দ ইবনে আকরাম বলেন, সাহাবায়ে কেরাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, কোরবানি কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোরবানি হলো তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নত।’এতে আমাদের সওয়াব কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের বদলায় একটি করে সওয়াব রয়েছে। ভেড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ভেড়ার প্রত্যেকটি পশমের বদলায়ও একটি করে সওয়াব রয়েছে ‘ (মুসনাদে আহমাদ)

লেখক: কেন্দ্রীয় আহবায়ক বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদ।

 

Banner
Side banner
Side banner